ইকো ও নারসিসাস - Echo and Narcissus - গ্রীক পুরাণ কাহিনী - Greek Mythology • Peak Fiction

 ইকো ও নারসিসাস 

Peak Fiction

গ্রীক মিথোলজির দুই চরিত্র ইকো (echo) এবং নারসিসাস। এদের গল্প বলার আগে প্রথমে বলে নিতে হয় জিউস এবং হেরার কথা। জিউস হচ্ছে কিং অফ দ্যা গড, আকাশ এবং ঝড়-বৃষ্টির দেবতা। আর হেরা হচ্ছে জিউস এর স্ত্রী, জন্ম এবং বিয়ের দেবী। জিউসের চরিত্র আবার মাশা আল্লাহ সেইরকম। তিনি খুব ছলে বলে কৌশলে হেরাকে ফাঁকি দিয়ে পৃথিবীতে এসে নিম্ফ ( এটার বাংলা যে কি বলা যায় ঠিক বুঝতে পারছি না হুর টাইপের কিছু কি? ) দের সাথে টাংকিবাজি করতেন। ইকো ছিল একজন নিম্ফ, খুবই সুমিষ্ট গলা ছিল তার আর প্রচুর কথা বলতে পারত। হেরার কাছে এসে ইকো তাকে মজাদার গল্প শোনাত অনেক সময় নিয়ে আর সেই সময় এর অপেক্ষায় থাকত প্রেমিকপ্রবর জিউস। তখন তিনি পৃথিবীতে এসে রঙ্গলীলা করতেন। হঠাৎ করে চালাকিটা ধরা পরে যায় হেরার কাছে। তিনি তখন রাগে ইকোর গলার শব্দ হরণ করেন। শুধু তাই নয় আরো কঠিন অবস্থা করে দিলেন ইকোর যাতে অন্য কেউ কিছু বললে ইকো শুধু সেই কথাই পুনরাবৃত্তি করতে পারত। ( এ থেকেই ইংরেজি শব্দ echo এসেছে ) । বেচারী ইকো মনের কষ্টে ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীতে।

ইকো ও নারসিসাস - Echo and Narcissus - গ্রীক পুরাণ কাহিনী - Greek Mythology • Peak Fiction

অন্যদিকে নারসিসাস হচ্ছে এক নিম্ফ এর পুত্র , অসাধারণ রূপবান পুরুষ। তার ছোটবেলায় এক জ্যোতিষী বলেছিল নারসিসাস খুবই ভাল বৃদ্ধকাল কাটাবে যদি সে তাকে চিনতে না পারে। রূপবান নারসিসাস যখন ১৬ বছরে পা দেয় তখন নগরীর সব যুবতী তার প্রেমে পড়ে যায় কিন্তু নারসিসাস ছিল উদ্ধত পুরুষ কাউকেই সে পাত্তা দেয় না। আমাদের বেচারী ইকো ও একদিন নারসিসাস এর প্রেমে পড়ে যায়। এক বিকেলে নারসিসাস শিকারে গেলে ইকো তার পিছু নেয়। অনেকটুকু যাবার পর নারসিসাস পায়ের আওয়াজ পেয়ে পিছনে জিজ্ঞেস করে “কে?” কিন্তু ইকো তো কথার পুনরাবৃত্তি ছাড়া কিছু বলতে পারে না তাই সেও উচ্চারণ করে “কে?” । এরকম কয়েকবার হবার পর ইকো আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে নারসিসাসের কাছে। আকুল আকুতি জানিয়ে তার প্রেম গ্রহণের জন্য আহবান জানায় নারসিসাস কে। উদ্ধত নারিসিসাস ইকোকে ফিরিয়ে দেয় এবং চলে যায় সেখান থেকে। প্রেম প্রত্যাখ্যাত ইকো অভিশাপ দেয় নারসিসাস কে যেন সেও একদিন এরকম ভাবে ভালবাসার আঘাত পায়। সেখানেই কাঁদতে থাকে ইকো। কাঁদতে কাঁদতে পাথর হয়ে যায় তার শরীর। শুধু পৃথিবীতে থেকে যায় তার কন্ঠ এ জন্যই আমরা প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।

Peak Fiction

আর ওদিকে ইকোর অভিশাপ অদ্ভুত ভাবে কার্যকর হয় নারসিসাসের জীবনে। কোন এক জলাশয়ে এসে পানি খেতে গিয়ে নারসিসাস জীবনে প্রথমবারের মত নিজের চেহারা দেখতে পায় এবং নিজের রূপে নিজেই বিমোহিত হয়ে পড়ে। প্রেমে পড়ে সেই যুবকের এবং তাকিয়েই থাকে পানির দিকে। পরবর্তীতে যখন সে বুঝতে পারে জলাশয়ের মুখ তার নিজেরই ছায়া এবং তার ভালবাসা কখনই পাওয়ার নয় তখন সে পাগল হয়ে উঠে এবং নিজের বুকে নিজেই ছুরি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়। সেখানে পরবর্তীতে নারসিসাস গাছ এর জন্ম হয়। কথিত আছে সেই গাছের ফুল এখনো পানির দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই থেকে নিজের প্রেমে পড়াকে নারসিজম বলা হয়।



Peak Fiction